উড়িয়ে লুচি আড়াই দিস্তে দেড় কুড়ি আম সহ
একাদশীর বিধান-দাতা করেন একাদশী,
মুখরোচক এঁর উপবাস,— দমেও ভারী,—অহো!—
পুণ্য ততই বাড়ে যতই এলান্ ভুঁড়ির কশি!
ওদিকে ওই ক্ষীণ মেয়েটি নিত্য একাহারী
একাদশীর বিধান পালন কর্ছে প্রাণে ম’রে,
কণ্ঠাতে প্রাণ ধুঁক্ছে, চোখে সর্ষে-ফুলের সারি,
তৃষ্ণাতে জিভ্ অসাড়্, মালা জপ্ছে ঠাকুর-ঘরে।
অবাক্ চোখে বিশ্ব দ্যাখে হায় গো বিশ্বনাথ,
দোরোখা এই বিধান ’পরে হয় না বজ্রপাত?
* *
নিষ্ঠাবানের সধবাও করেন একাদশী
পতির পাতে প্রচুর ভাবে ‘আট্কে’ বেঁধে রেখে,
আওটা-দুখে চুমুক লাগান্ পিছন ফিরে বসি’
পাঁতিদাতা পতি-গুরু পাছে ফেলেন দেখে।
বিড়াল চাটে দুধের বাটি বাড়িয়ে দিয়ে গলা,
পিঁপ্ড়ে মাছি আমের খোলায় উল্লাসে ভিড় করে,
শাস্ত্র যাদের ভয় দেখিয়ে করিয়েছে নির্জ্জলা
তারাই শুধু হাতের চেটো মেল্ছে মেঝের পরে।
তৃষ্ণাতে জিভ্ টান্ছে পেটে, এম্নি রোদের তাত্,
খস্খসে দুই চোখের পাতা, হয় না অশ্রুপাত।
* *
ফোঁটায় ফোঁটায় শিবের মাথায় ঝারার যে জল ঝরে—
সতৃষ্ণ চোখ সারা বেলা দেখ্ছে শুধু তাই,
কাকটা কখন গুটি গুটি ঢুকে ঠাকুর-ঘরে
অর্ঘ্যপাত্রে মুখ দে’ গেল,—একটুও হুঁশ নাই!
চক্ষু দিয়ে প্রাণ-পাখী হায় মেল্ছে বুঝি পাখা,
ভির্ম্মি গেছে—ভির্ম্মি গেছে—জল কে দেবে মুখে?
কারো সাড়া নেইকো কোথাও মিথ্যে হাঁকা ডাকা—
একাদশীর বিধান-দাতার গর্জ্জে নাসা সুখে।
অধোমুখে বিশ্ব দ্যাখে, হায় গো বিশ্বনাথ।
পাষাণ ’পরে অশ্রু ঝরে’ পড়ে দিবসরাত।
Post a Comment