Latest facebook tips and tricks for 2015

Facebook is one of the best social networking site which is known to everyone. It allows us to connect with anyone all around the world and we can chat with them, Share photos and videos and a lot of things. Now a days everybody know how to use facebook work. Here I will tell you some latest tricks which will make your facebooking time more interesting and enjoyable. 



Trick 1: Update a blank status
First log in to your facebook account. Now enter @[3:3:] in status box. 
 
 
There is something more. If you like to update long blank status then paste the code @[3:3:] several times as shown below.
@[3:3:]
@[3:3:]
@[3:3:]
@[3:3:]

Trick 2: How to post animated images like .gif on facebook!
Facebook normally do not allow to upload animated pictures. But there is a way.

a) First visit giphy website.
b) Select a animated gif image that you want to share on your facebook timeline.
c) Paste the image link on facebook status box and click “post”. Done.

Trick 3: Invite all friends to like a facebook page by single click.
a)     Open your facebook page from which you want to send invitation to all of your friends.
b)    Click on invite friends option. A pop up window will open.
c)     Press F12 key from your keyboard. Chrome console will open.
d)    Copy the following code posted below and paste it in the console window.

var inputs = document.getElementsByClassName(‘uiButton _1sm’); for(var i=0; i<inputs.length;i++) { inputs[i].click(); }

Trick 4: Download facebook photo album by one click.
You can download all the photos of a facebook album. You just need to use Facebook2zip.com .

  • a: The app will ask you to login with facebook.
  • b:  After log in the apps will ask you to select a facebook friend from whom you want to download photo album.
  • c: Select the photo album you want to download
  • d: Click Download button and save photo album to your computer.

Trick 5: Create and post fake facebook status.
You can amaze your friends by posting fake status by anyone’s name.
fake fb status
aa)     Go to  The Wall Machine
bb)      Connect with your facebook profile and log into it.
cc)    Now you will able to post any kind of fake status.

Trick 6: Create Video with your facebook pictures.
If you want to make a video using your facebook photos you have to visit piaxable.com and log there with your facebook account and folloew the simple steps.

Trick 7: Find out who unfriend you.
Just use this Application .

Trick 8: Post a status in all of your facebook groups at once.
Vist Multi post application and login with your facebook. Done. You can use another app, click here .  

 

How to restore deleted Facebook Messages and Images

  • First Login to your facebook account and head towards general setting page through this link.
  • Now Click on Download a Copy of your Facebook Data
  • At the very next page a Download archieve button will be visible, Click on it and they might ask you to enter your FB password again, Just enter it.
  • When you click on Submit button and you will see download link for your data will be sent to your email id.
  • Now log in to your mail account and download the archive from the link which you received in your mail.
  • That’s it..!! Extract or Unzip the file and there would all information of your FB account such as messages, image, videos, etc.

 

Facebook Chat tricks

  • Send your Friends Cool messages in different Style like Upside down or flipped text and many more.
  • Visit this website from your Computer browser.
  • Now here type your desired text in dialog box and choose appropriate style.
  • Now Simple Copy the text and post it to FB status and it will appear in different style.
 

Visible Online for Whom You want

Now you can visible online for whom you want.By using this trick you can chat with only with the persons whom you want.
  • Just go to Advanced chat settings by clicking on Gear icon below chat bar.
  • Then a pop up arises  just like below screen capture
  • Now click Turn On chat for Some Friends
  • Now add your friends in the options
  • finally click save option.
 

লজ্জাবতী লতা : রাজেন্দ্র সিং বেদী (অনুবাদ গল্প)

দেশ ভাগ হলো। আর আহত হলো অগণিত লোক। সকলে উঠে শরীর থেকে রক্ত মুছে ফেলে। আর সকলে মিলে একজনের দিকে ছুটে যায়, যার দেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই, কিন্তু হৃদয় আহত। মহল্লা মহল্লায় গলিতে গলিতে আবার পূনর্বাসনসম্পর্কিত কমিটি গঠিত হয়েছে। প্রথম দিকে অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে ব্যবসা বাণিজ্যে পূনর্বাসন, জমিতে পুনর্বাসন, আর বাড়ি ঘরে পুনর্বাসন কর্মসূচি শুরু করা হয়। তবে একটি কর্মসূচি ছিল যার প্রতি কারও তেমন মনযোগ ছিলনা। তা হলো অপহৃত মহিলাদের উদ্ধার কর্মসূচি। এর স্লোগান ছিল হৃদয়ে পুনর্বাসনকিন্তু এই কর্মসূচির ব্যাপারে নারায়ন বাওয়ার মন্দির এবং আশে পাশে বসবাসকারী প্রাচীনপন্থী গোত্রের লোকজন প্রচ- বিরোধিতা করে।

এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য মন্দিরের পাশের মহল্লা মোল্লা শুকুরএ একটি কমিটি গঠিত হয়। এগারো ভোটে সুন্দর লাল বাবুকে সম্পাদক এবং উকিল সাহেবকে সভাপতি মনোনীত করা হয়। কালান থানার বৃদ্ধ কেরানী এবং মহল্লার অন্যান্য মাতব্বর লোকদের ধারণা, সুন্দর লাল ছাড়া এই দায়িত্ব অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে অন্য কেউ সম্পাদন করতে পারবেনা। কারণ সুন্দর লালের স্ত্রী অপহৃত হয়েছে আর তার নাম ছিল লাজবন্তি। অতএব, প্রভাত ফেরীর মিছিলে সুন্দর লাল, তার বন্ধু রেসালো এবং নেকীরাম ও অন্যান্যরা মিলে যখন গাইতে থাকে হাত লাই কমানী লাজওয়ান্তি দে বুটে’ (অর্থাৎ এটি একটি লজ্জাবতী লতার চারা, হাত লাগালেই সংকুচিত হয়।) তখন সুন্দর লালের মুখ দিয়ে কোনো আওয়াজ বের হয় না। সে নীরবে মিছিলে সবার সাথে এগিয়ে যেতে যেতে লাজবন্তির ব্যাপারে ভাবতে থাকে, ‘জানি না সে কোথায় কি অবস্থায় আছে। আমার ব্যাপারে কি ভাবছে। সে কি কখনও ফেরত আসবে নাকি আসবেনা?’ ইটের রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে তার পা নড়বড় করে উঠে।

এখন এমন অবস্থা হয়েছে যে, লাজবন্তি সম্পর্কে চিন্তা ভাবনাই ত্যাগ করেছে। তার দূঃখ সারা দুনিয়ার বেদনায় পরিণত হয়েছে। সে দুঃখ বেদনা থেকে পরিত্রাণের জন্য জনসেবায় আত্মনিয়োগ করেছে। অবশ্য এরপরও তার সাথীদের সাথে গানে সুর মিলাতে গিয়ে তার অবশ্যই মনে হয়, মানুষের হৃদয় কত নাজুক। সামান্য ঘটনায় আঘাত পায়। সে লজ্জাবতী লতার মতো। ওর দিকে হাত বাড়ালেই সংকোচিত হয়। কিন্তু সে লজ্জাবতীর সাথে অনেক দুর্ব্যবহার করেছে। সে তার চলাফেরা, খাবার ব্যাপারে অমনযোগী হওয়া এবং এ ধরনের মামুলী মামুলী ব্যাপারে তাকে মারধর করত।

আর লাজু শাহতুত (এক প্রকার ফলের গাছ) গাছের হালকা ডালের মতো নাজুক ফর্সা গ্রাম্য মেয়ে ছিল। রোদে ঘোরাঘুরি করায় তার গায়ের রং শ্যামলা হয়ে গেছে। তার স্বভাব আচরণে এক বিচিত্র অস্থিরতা ছিল। তার অস্থিরতা শিশির বিন্দুর মতো যেটা বড়ো পাতায় এদিক সেদিক ছুটাছুটি করে। তার দেহের গড়ন ছিল হালকা পাতলা যেটা তার দুর্বল স্বাস্থ্যের লক্ষণ নয় বরং সুস্বাস্থ্যের লক্ষণ। তাকে দেখে প্রথমে ঘাবড়ে যায় সুন্দরলাল। কিন্তু পরে দেখল, লাজু সব ধরনের বোঝা আর দুঃখ কষ্ট সহ্য করতে পারে। এমনকি মার খাওয়ার পরও যথারীতি সহ্য করে যাচ্ছে। তখন সুন্দর লাল লাজুর উপর তার নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু সে জানত না, এরও একটা সীমা আছে, সীমা অতিক্রম করলে মানুষের ধৈর্য্য ভেঙে যায়। অবশ্য এর জন্য লাজুরও কিছু ভূমিকা ছিল। সে কখনও উদাস হয়ে বসে থাকতে পারে না। তাই দারুণ ঝগড়া বিবাদের পরও সুন্দর লাল মুছকি হাসলে লাজু হাসি চেপে রাখতে পারত না আর লাফিয়ে ওর কাছে চলে আসত। আর গলায় দুহাতে জড়িয়ে বলত, ‘আবার আমাকে মারলে তোমার সাথে কথা বলব না এতে সুস্পষ্ট যে, এতক্ষণের মারপিট খাওয়ার ঘটনা সে ভুলে গেছে। গ্রামের অন্যান্য মেয়েদের মতো সে জানে, পুরুষরা মেয়েদের সাথে এমনি ব্যবহার করে থাকে। অবশ্য মেয়েদের মাঝে কেউ বিদ্রোহ করলে তখন মেয়েরাই হতবাক হয়ে বলতে থাকে, ‘দেখ, এ কেমন পুরুষ, মেয়ে মানুষকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে না।এই মারপিটের ঘটনা তাদের গীতে উচ্চারিত হয়। স্বয়ং লাজু গাইতে থাকে-
আমি শহরের বাবুকে বিয়ে করেব না।
ওরা জুতা পরে আর
আমার নিতম্ব যে অত্যন্ত ছোটো।

কিন্তু প্রথম দফায় লাজুর শহরের এক ছেলের সাথে তার হৃদ্যতা গড়ে ওঠে। তার নাম সুন্দর লাল। একটি বরযাত্রীর সাথে সে লজ্জাবতীর গ্রামে এসেছিল। সে বরের কানে কানে বলেছিল, ‘তোমার শালী তো বেশ চটপটে, তোমার স্ত্রীও চটপটে হবে।লাজবন্তি সুন্দর লালের এই কথা শুনেছিল। কিন্তু সে ভুলেই গিয়েছিল, সুন্দরলাল কিরূপ কুৎসিত জুতা পরেছিল আর তার কোমর কতখানি চিকন। প্রভাত ফেরিতে সুন্দর লালের এসব কথা মনে পড়ছে। আর সে ভাবছিল, যদি লাজবন্তিরআবার সে দেখা পায়, তবে সত্যিই সত্যিই সে তাকে হৃদয়ে স্থান দেবে আর লোকজনকে বলবে, বেচারী মেয়েদের অপহৃত হওয়ার ব্যাপারে তার কোনো অপরাধ নেই। যে সমাজে এই সব নিরপরাধ ও নিষ্পাপ মহিলাদের গ্রহণ করে না, তাকে আপন করে নেয় না, সেটা একটি গলিত পঁচা সমাজ। তাকে নিশ্চিহ্ন করা দরকার। সে এসব অপহৃতা মহিলাদের প্রত্যেক বাড়িতে পুনর্বাসনের শপথ নেয় আর তাদের এমন মর্যাদা দানের ইচ্ছা প্রকাশ করে যেমন যে-কোনো নারী, মা, বোন, স্ত্রী আর কন্যাকে দেয়া হয়। আবার সে মনে মনে ভাবে, তার আকার ইঙ্গিতেও লাজবন্তির প্রতি সংঘটিত নির্যাতনের কথা স্মরণ করা উচিত হবেনা। কারণ তার হৃদয় আহত, সেটা অত্যন্ত নাজুক যেমন লজ্জাবতী পাতা-হাত লাগালেই সংকুচিত হয়ে যায়।

অতএব, ‘হৃদয়ে পুনর্বাসনকর্মসূচিকে বাস্তবায়নের জন্য মোল্লা শুকুরমহল্লায় গঠিত কমিটি কয়েক দফা প্রভাত ফেরী বের করেছে। ভোর চার থেকে পাঁচটা হলো প্রভাত ফেরীর উপযুক্ত সময়। লোকজনের ভীড় আর ট্রাফিক জাম থাকে না, সারারাত চৌকিদারী করার জন্য জেগে থাকা কুকুরগুলো পর্যন্ত রুটি তৈরির চুল্লির পাশে কু-লী পাকিয়ে শুয়ে থাকে। বাড়িতে ভোরবেলা বিছানায় ঘুমন্ত লোকগুলো প্রভাত ফেরির আওয়াজ শুনে মন্তব্য করে, ওই সেই হৈচৈ। তারপর ধৈর্য্য সহকারে বাবু সুন্দর লালের প্রচারণা শুনতে থাকে। যেসব মহিলা নিরাপদে এপারে ফিরে এসেছে, ওরা তাদের স্বামীর বাহু বন্ধনে বুকের সাথে জড়িয়ে প্রভাত ফেরীর হৈ চৈ এর জন্য মুখে মিন মিন করে প্রতিবাদ জানায়। ঘুমন্ত শিশুরা মিছিলের আওয়াজ শুনে সামান্য সময়ের জন্য চোখ খুলে আর হতভাগ্য ফরিয়াদী আর বিষন্ন মানুষের প্রচারণার গান ভেবে আবার ঘুমিয়ে পড়ে।

কিন্তু ভোরবেলা কানে যে শব্দ প্রবেশ করে তা বৃথা যায় না। সেটা সারাদিন চিন্তা রাজ্যে বাদানুবাদের মতো চক্কর দিতে থাকে। অনেক মানুষ-এর অর্থ ও বুঝতে পারে না। তবুও গুন গুন করতে থাকে। এই আওয়াজই গৃহে পুনর্বাসনের বিষয় ছিল। কিছুদিন আগে মিস মৃদুলা সারা বাই ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে অপহৃত মহিলাদের হস্তান্তরের জন্য এনেছিলেন, তখন মোল্লা শুকুর মহল্লার কিছু অধিবাসী ওদেরকে পুনর্বাসনের জন্য সম্মত হয়। ওরা ওয়ারিশ শহরের বাইরে কোলা থানায় দেখা করতে গেল। অপহৃত মহিলারা এবং তাদের গ্রহণকারী লোকজন কিছুক্ষণ যাবত পরস্পরের দিকে তাকিয়ে থাকে। তারপর মাথা নিচু করে নিজেদের সংসার পুনরায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ওরা বাড়িতে চলে যায়। রেসালো, নেকীরাম এবং সুন্দরলাল বাবু একবার মহেন্দ্র সিং জিন্দাবাদ’, একবার মোহন লাল জিন্দাবাদশ্লোগান দিতে থাকে। শ্লোগান দিতে দিতে ওদের গলা শুকিয়ে যায়।

আবার অপহৃত মেয়েদের অনেককে তাদের স্বামী, বাবা মা, ভাই বোনেরা তাদেরকে না চেনার ভান করে এবং তাদের সাথে সম্পর্কের কথা অস্বীকার করে। অবশ্য এরা মৃত্যুবরণ করে নি কেন? নিজেদের সতীত্ব রক্ষার জন্য বিষপানে আত্মহত্যা করে নি কেন? কূপে ঝাপ দিয়ে আত্মহত্যা করতে পারত। কারণ এরা ছিল ভীরু, তাই জীবন বিলিয়ে পারে নি বরং জীবনকে বাঁচিয়ে রেখেছে।

অগণিত হাজারো মহিলা তাদের সতীত্ব লুণ্ঠনের আগে প্রাণ বিসর্জন দিয়েছে কিন্তু তারা তো জানতনা, জীবিত থেকে ওরা কীইবা বীরত্ব দেখাল। পাথরের মতো চোখগুলো ওদেরকে এখন মৃত্যুকে তীর্যক দৃষ্টিতে অবলোকন করছে। এমনকি স্বামীরা পর্যন্ত ওদেরকে চিনতে পারছে না। অনেকে বার বার নিজের নাম উচ্চারণ করছে। সোহাগ দানী, সোহাগ বিন্তি, তাদের ভাইদের অগ্নিমূর্ত্তি দেখে সর্বশেষ মিনতির সুরে বলছে, ‘বাহারী তুমিও আমাকে চিনলে না? আমি তোমাকে কোলে বসিয়ে খাইয়েছি।আর বাহারী চিৎকার করতে চায় তারপর মাতা পিতার দিকে তাকায়। বাবা মা বুকে হাত রেখে নারায়ণ বাবার দিকে তাকায় এবং অত্যন্ত অসহায় অবস্থায় নারায়ণ বাবা আকাশের দিকে তাকায়; যার আসলে কোনো বাস্তবতা নেই এবং সেটা ছিল আমাদের দৃষ্টির ভ্রম। এর একটি সীমারেখা আছে। যার উপরে আমাদের দৃষ্টি যায় না।


কিন্তু সামরিক বাহিনীর ট্রাকে মিস সারা বাই বিনিময়ের জন্য যেসব মহিলাদের এনেছিল, ওদের মাঝে লাজু ছিল না। সুন্দর লাল অনেক আশা নিয়ে ট্রাক থেকে অবতরণকারী শেষ মেয়েটিকে পর্যন্ত দেখেছে। অতঃপর সে নীরবে অত্যন্ত উৎসাহ নিয়ে কমিটির তৎপরতা শুরু করে। এখন সে শুধু ভোরে প্রভাত ফেরী তো আছেই বরং সন্ধ্যায় ও মিছিল বের করে। অনেক সময় এক-আধ ঘণ্টা স্থায়ী ছোটোখাটো জনসভারও আয়োজন করছিল। এই জনসভায় কমিটির বৃদ্ধ সভাপতি উকিল কালকা প্রসাদ সুফির কাশি মিশানো বক্তৃতা শোনা যেত। রেসাল সর্বদা উকিল সাহেবের পাশে পিকদানি নিয়ে দায়িত্ব পালন করত। লাউড স্পীকার থেকে বিচিত্র আওয়াজ আসত। থানার নেকীরাম কেরানী বক্তৃতা দিতে গিয়ে ধর্ম শাস্ত্র ও পুরানের আলেক উদ্ধৃতি দিত আর উদ্দেশ্য বিহীন বক্তব্য রাখত। ফলে উপস্থিত দর্শকরা মাঠ ত্যাগ করতে শুরু করত। তখন সুন্দরলাল বাবু বক্তৃতা দিতে মাইকের সামনে হাজির হতো। কিন্তু সে দুটি বাক্যের বেশি কোন কথাই বলতে পারত না। তার গলায় কথা আটকে যেত। অবশেষে বসে পড়ত। তিনি কেঁদে ফেলতেন, দু চোখ দিয়ে অশ্রুধারা বইত। আবেগ আপ্লুত হওয়ায় বক্তৃতা করতে পারতেন না। কিন্তু উপস্থিত জমায়েত শ্রোতার মাঝে এক বিচিত্র- ধরনের নীরবতা বিরাজ করত। সুন্দর লাল বাবুর দু বাক্যের বক্তব্য তাদের হৃদয়ের গভীরে প্রবেশ করত; উকিল কালকা প্রসাদ সুফির উপদেশমূলক বক্তৃতাকে ও ছাড়িয়ে যেত। উপস্থিত শ্রোতারা তখনই কেঁদে ফেলত আর আবেগ আপ্লুত হয়ে চিন্তামুক্ত হয়ে বাড়ি ফিরত।
 

ঘোড়া চোর : এরস্কিন কল্ডওয়েল (অনুবাদ গল্প)

লুড মুসুলির দ্রুতগামী ক্যালিকো ঘোড়াটি আমি চুরি করিনি যদিও চারপাশে প্রচার করা হচ্ছে আমিই চুরি করেছি। যারা আমাকে জানে তারা কখনোই বিশ্বাস করবেনা যে, এ ধরনের একটি কাজ আমি করতে পারি। মি. জন টার্নারকে আমি প্রধান সাক্ষী মানছি, আপনারা তাকেই জিজ্ঞেস করুন। সেই বাল্যকাল থেকে তিনি আমাকে জানেন। বিশ্বাস করুন, ঘোড়া চোর হওয়ার জন্য আমি বড় হইনি। গত পরশু রাতের কথা, এক জায়গায় যাব স্থির করে মনের কথাটা মিঃ টার্নারের কাছে প্রকাশ করি। গত দুবছর ধরেই ছুটির দিনগুলো আমি ইচ্ছেমত ঘুরে বেড়িয়েছি।বরাবরই উৎফুল্লচিত্তে তিনি আমাকে বিদায় জানিয়েছেন। ঘোড়া, গদি দিয়ে আমার ভ্রমণকে সুখময় করেছেন। আমার প্রস্তাব শুনে তিনি খুশি হলেন, কাজের অবসরে বেড়ানোটাকে তিনি যথেষ্ট মূল্য দিয়ে থাকেন। বললেন, বেশ তো যাও। বেটসিকে (বেটসি একটি মাদি ঘোড়ার নাম) নিয়ে যেও। ও আমার মতো তোমার সফরকেও আনন্দময় করে তুলবে। ও হ্যাঁ, ‘টেকসাস সেডেলগদিটাও নিয়ে যেও।

তাঁর এই দিলখোলা আচরণ আমার খুবই ভাল লাগে। হেসে জবাব দেই, না গদিটদির আমার দরকার নেই, চাবুক আর লাগামটা হলেই চলবে। এতেই আমি স্বচ্ছন্দবোধ করব। তাছাড়া আমি যেখানে যাচ্ছি ওখানে যাওয়ার জন্য টেকসাস সেডেলএর মতো মূল্যবান গদির প্রয়োজন পড়ে না। এ সফর আমার একান্তই ব্যক্তিগত। পথে আমাকে ডেকে থামানোর অধিকারও কারো নেই।

মিঃ টার্নার বলবেন-অবশ্যই বলবেন কোনো সমস্যায় জড়িয়ে পড়ার জন্য সে রাতে আমি ঘর থেকে বেরিয়ে যাইনি। তিনি আমার সারাজীবনের খবর রাখেন। অতীতে তাঁকে কিংবা অন্য কাউকে কখনো আমি বিপদে ফেলিনি।

আমি যখন বেটসিকে নিয়ে মি. টার্নারের আস্তাবল ত্যাগ করি রাতের খাবারের সময় তখন অতিক্রান্ত। মি. টার্নার উঠোনে এসে দাঁড়ালেন এবং আবারও জিজ্ঞেস করলেন যে, গদি আমি নিতে চাই কি-না। ঘোড়ার পিঠে সামান্য কুঁজো। আমি সেটাকে গুরুত্ব দিলাম না। বললাম, খালি পিঠে চড়তে আমার খারাপ লাগে না। তিনি তখন সহাস্যে বললেন, ঠিক আছে তোমার যেমন ইচ্ছে। তিনি আমাকে কিছুটা পথ এগিয়ে দিলেন, ঘোড়া ছোটানোর আগ পর্যন্ত তিনি বেটসির গলা ধরে দাঁড়িয়ে রইলেন এবং কৌশলে জানতে চেষ্টা করলেন কোথায় যাচ্ছি- যদিও তিনি তা আগে থেকেই জানতেন। আমার মনে হলো বিদায়বেলায় তিনি ঠাট্টা করে কিছু একটা বলতে চেয়েও বললেন না- আমি যাওয়া স্থগিত করতে পারি এই ভেবেগেট পেরিয়ে রাস্তায় নেমে এলাম এবং অল্পক্ষণের মধ্যেই বিশপের ক্রসরোড অতিক্রম করে ফেললাম। অন্ধকার ছিল, তবু একবার পেছনে ফিরে দেখলাম উঠোনের গেটে দাঁড়িয়ে মি. টার্নার একদৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন। নতুন রাস্তায় পড়ে বেটসি ধীরে ধীরে এগোতে থাকে। প্রতিদিনের মতো আজ আর তাড়াহুড়ো করলাম না। কারণ পরিশ্রান্ত ছিলাম। তাছাড়া তিন কিলোমিটার পথে নষ্ট করার মতো দুঘন্টা সময় আমার হাতে ছিল।

লুড মুসুলির কনিষ্ঠ কন্যা নাওমির সঙ্গে আমি দেখা করতে যাচ্ছি, পথ পাশের যারা আমাকে চিনত তারা সবাই তা জানত। নাওমি অপূর্ব সুন্দরী মহৎ হৃদয়ের একটি মেয়ে। তার সঙ্গে আমার বেশ কদিন দেখা হয়নি। তাই সে বলেছিল, যে কোনো উপায়ে যেতে। বলেছিল, উঠোনের গাছগুলোর নিচে অন্ধকারে দাঁড়িয়ে আমার জন্য অপেক্ষা করো।

পৃথিবীতে আমার এমন কোনো সম্পদ কিংবা প্রভাব-প্রতিপত্তি নেই, যা নিয়ে আমি মি. মুসুলির বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারি। অতি মামুলি একজন মানুষ আমি। কিন্তু নাওমির জন্য আমার ভালবাসা মামুলি নয়। এখন মি. টার্নারই আমার একমাত্র ভরসা। দুর্দিনে তিনি আমার পাশে দাঁড়াবেন, এ বিশ্বাস আমার আছে। একটা মাত্র সপ্তাহ আমি নাওমিকে দেখতে পাইনি। ওটা তেমন কি আর দীর্ঘ সময়। তবু নাওমির ওপর আমার ভীষণ রাগ হচ্ছে। মনে হচ্ছে ও আমাকে ভালবাসে না কিংবা কখনোই বলেনি গিয়ে দেখা করতে। তাহলে নিশ্চয়ই তার বাবা আমাকে বাড়ির গেট থেকে বিদায় করে দিতে পারতেন না। বলতে পারতেন না, তোমার আসবার প্রয়োজন নেই।

মি. মুসুলি মনে করেন নাওমির সঙ্গে আরেকবার দেখা হলেই আমরা পালিয়ে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলব। তখন আর তিনি আমাদের ধরার সুযোগ পাবেন না। তাই তিনি একটু মাত্র ভুলের জন্য আমাকে তার ঘোড়া চুরির অপবাদ দিয়ে বিশ বছরের জন্য মানব সংশোধনী জেলে পাঠিয়ে দেয়ার সুযোগ নিচ্ছেন। তিনি নিজেও জানেন-চুরি যে আমি করিনি। তবু এইত সুযোগ পথের কাঁটা সরিয়ে দেয়ার। তিনি মনে করেন, অপদার্থটাকে কোনো রকমে জেলে ঢুকিয়ে দিতে পারলেই নাওমির অন্যত্র বিয়ে দেয়ার পক্ষে আর কোনো বাধাই থাকবে না।

গত পরশু বৃহস্পতিবার রাতে বেটসির খালি পিঠে চড়ে আমি যখন নাওমিদের বাড়ির কাছে যাই, রাত তখন নটা। বাড়ি ও তার চারপাশের সবকিছুই তখন শান্ত এবং স্বাভাবিক। ওটা লুড মুসুলির শুতে যাওয়ার সময়। আমি গোলাবাড়ির উঠোনের গেটে গেলাম। সেখান থেকে নাওমির ঘরের বাতি দেখা যাচ্ছিল। ওই ঘরে সে আর তার বড় বোন মেরি লি থাকে। আমরা সব সময় লির নটা ত্রিশে ঘুমোতে যাওয়ার পরই মিলিত হতাম। জানালা দিয়ে উঁকি দেই। দেখি নাওমি শুয়ে আছে। আর তার শয্যাপাশে দাঁড়িয়ে তার বোন মেরি লি কিছু একটা বিষয়ে কথা বলছে। কিন্তু হঠাৎ দেখি মেরি লি নাওমির শরীর থেকে পোশাক খুলে নিতে চেষ্টা করছে। হয়ত রাতে যাতে বের হতে না পারে সে জন্যই এ ব্যবস্থা। আমার খুব খারাপ লাগছিল। কারণ, এরপর নাওমিকে আবার অন্ধকারে লুকিয়ে পোশাক পরে আমার কাছে আসতে হবে। আমার মনে হয়, মেরি লির সঙ্গে চালাকি না করে সব কথা তাকে খুলে বললেই ভাল হতো। তাহলে সে হয়ত আমাদের সহায়তা করত। কিন্তু নাওমি কিছুতেই রাজি হয় নি। বলাটাকে সে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করেছে। কিন্তু মেরি লি তার সব চালাকি বুঝতে পারত। তাই সে সুযোগ খুঁজছিল আমাদের জব্দ করার জন্য। আমার উপস্থিতি আঁচ করতে পেরেই সে ঘুমোতে যাওয়ার ছলে তার বাবাকে গিয়ে বলল। নাওমিও অল্পক্ষণের মধ্যেই বোনের চালাকি বুঝতে পারে এবং বিছানা থেকে উঠে নিজেই পোশাক খুলে ফেলল। আমি কিছুই জানতে পারিনি। গাছগুলোর নিচে অপেক্ষা করতে থাকি। পনেরো মিনিটের মতো সময় কেটে যায়। বোনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে নাওমি কিভাবে বেরিয়ে আসেতাই দেখতে বড় ইচ্ছে করছিল।


আর তখনই হঠাৎ মুসুলির ঘরের জানালা খুলে গেল। আমি নিজেকে আড়াল করতে নিরাপদ দূরত্বে গিয়ে অপেক্ষা করতে থাকি। এভাবেই অপেক্ষায় থেকে থেকে রাত গড়িয়ে যায়। আর নাওমির আসার সম্ভাবনা ক্রমশই ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হয়ে যায়। বাড়ি ফিরব বলে স্থির করি। রাত তখন সাড়ে বারোটা কি একটা। চাঁদ মেঘের আড়ালে ঢাকা পড়ে গেছে। অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়ে গেছে মুসুলির গোলাবাড়ির উঠোন। সামনে আমি আমার নিজের হাতই দেখতে পাচ্ছি না। বেটসিকে বের করে আনতে গেলাম। গিয়ে দেখি আস্তাবলের দরজা খোলা। অন্ধকার হাতড়ে বেটসিকে খুঁজতে থাকি, আস্তাবলের এক কোণে তার পশ্চাৎপাশে আমার হাত পড়ল। কিন্তু মুখে তার লাগাম নেই। ভাবলাম, লাগাম হয়ত খুলে ফেলেছে। মাটিতে পায়ের সাহায্যে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পেলাম না। দরজার কাছে মি. মুসুলির ঝুলিয়ে রাখা একটা লাগাম পেয়ে গেলাম। সেটা লাগিয়েই বেটসিকে নিয়ে রাস্তায় নেমে এলাম এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই মুসুলির এলাকা পার হয়ে এলাম। বাড়ি পৌঁছে বেটসিকে আস্তাবলে বেঁধে রেখে যখন শুতে গেলাম রাত তখন প্রায় শেষ হয়ে গেছে।
 

চোখ : জয়ন্ত মহাপাত্র (অনুবাদ গল্প)

ও চোখ দুটো বন্ধ করল। খুব আবছা হাসির টুকরো ঠোঁটের কোণে। মেনে নেওয়ার হাসি। একেবারে নিজস্ব। আর ঠিক তখনই আমার মনে ঝিলিক দিয়ে গেল, ও যা কিছুর জন্য অপেক্ষা করছে এই মুহূর্তে তা আমাদের দুজনের। দুজনকেই ভাগ করে নিতে হবে। তা না হলে এই যে আলো দোদুল্যমান আলো আমাদের যাপনে এখনতা নিভে যাবে। ফুসমন্তরে । আলো -আঁধারিতে দেখি ওর চোখের পাতা কেমন তিরতির করে কাঁপছে। নিজেকেই বুঝি স্তোক দিয়ে যাই, হয়ত অনেক করে চাওয়া এক দুকণা সুখের কুচি এখনও পড়ে আছে কোথাও। ওর মনের কোণের বাইরে।
মাথাটা একটু নামিয়ে একটা চুমু খেলাম । ওর বন্ধ চোখের পাতায়।

একটু উষ্ণ, একটু বা বুঝি ভিজে। ইদানীং যেমন মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছিল, আজ তেমনটি করল না । আমাকে মেনে নিল ওর নিশ্চুপ অভিব্যক্তিতে। এ এক এমন নীরবতা, যা নির্মমভাবে ছড়িয়ে যাচ্ছে আমাদের দৈনন্দিনতায়, সটান প্রবেশ করছে আমার শরীর ভেদ করে। অনেক অনেক অচেনা দূরত্ব পেরিয়ে কানে আসে ঢেউয়ের আছড়ে পড়ার শব্দ। বেলাভূমিতে। এই ধ্বনি আমাদের অতীত আর ভবিষ্যৎ জুড়ে বিছিয়ে; এই ধ্বনি অতীত আর ভবিষ্যতের মধ্যে রেশমি সুতোর ফাঁস। এই ধ্বনি আমার মনের মধ্যে প্রায় নিভু নিভু স্মৃতির প্রদীপের সলতেটাকে কেমন উসকে দেয়। আমি ওর কাঁধে হাত রেখে ওকে খুব শান্ত অথচ অচঞ্চল ভাবে শুইয়ে দিলাম খাটে।

জিজ্ঞেস করলাম, ব্যথা করছে কি ? ঠিক প্রশ্ন নয়, অনেকটা বক্তব্যের ধাঁচে। খুব সন্তর্পণ অনুভব। আসলে কী যে বলব, বুঝে উঠতে পারি না। সকালে শ্যাম্পু করেছিল। সানসিল্ক। সেই খুব হালকা মিষ্টি গন্ধটা আমার নাকে আসছে। কেমন একটা অস্বস্তি মাথার মধ্যে টুংটাং টুংটাং ।

জবাবে শুধু মাথা নেড়ে নাএর মধ্যেই চোখ খুলেছে দৃষ্টি থমকে আছে মেঝেতে ; আমার পায়ের কাছে। আমি জানালা পেরিয়ে বাইরে তাকিয়ে; দূরে বিশাল নদীগর্ভ ঢাকতে চেষ্টা করছে আসন্ন রাত্রির অন্ধকার। আর আমার দেখার ফাঁকে ফাঁকে কেমন টিপটিপ করে জ্বলে উঠছে রক্তবিন্দু। লাল আলো। সেতুর ওপরে। ইস্পাতের শীতল স্তম্ভগুলি সাজিয়ে।
ইতিমধ্যেই রাত ঘনিয়ে এসেছে । অন্ধকারের মুখে অনেকটা যেন প্রীতম সিংয়ের ক্যানভাসে আঁকা মেয়েদের মুখের আদল নিষ্কম্প, চিন্তিত। ঘন কালচে নীল রাতের আকাশ। একটু কি বঙ্কিম বিদ্রূপ লেগে আছে? ভেতরে ভেতরে অস্থিরতা। অপেক্ষা। সূর্যোদয়ের। কিন্তু সব ছাপিয়ে আমি যেন অনুভব করছি এক অদ্ভুত অহিতেচ্ছা । হয়ত এই অন্ধকার আমার ছুঁড়ে ফেলে দিতে চাইছে বাইরে; আমাদের বাড়ির ঠিক বাইরে ওই শূন্য চবুতরায় আমরা হাঁটছি সামনে পেছনেশুধু হাঁটছি
নদীর বাতাস ভাসিয়ে নিয়ে এলো স্টিমারের ভোঁ। গম্ভীর, থমথমে রাগী । আচমকা কেমন জোয়ারের মতো আমার সমস্ত চেতনা জুড়ে পরাজয়ের ঢল।

আমি তাকালাম ওর দিকে। ও নিশ্চুপ। একটু ঝুঁকে পড়া পিঠ। খাটের ওপর।
একটুও নড়েনি । ওর সীসের মতো ভারী নিস্তব্ধতা আমার দম বন্ধ করে দিচ্ছিল।
আমার কেন মনে আসছে একটা মরা গাছ নুয়ে আছে পাহাড়ী ঝোরার ওপর?
তুমি কি ভাবো আমি সত্যি সইতে পারব? যদি তুমি চলেই যাও …? আমি কিছুতেই এই কথাটা মনে মনেও উচ্চারণ করে উঠতে পারি না। এ এক এমন বাক্যবন্ধ, যার নিঃশব্দ অভিঘাত অনুভব করা মোটেই সহজ নয়। মাত্র ছাব্বিশ বছরের সুন্দরী তরুণী স্ত্রী আমার অন্ধ হয়ে যাচ্ছে ।

ফিরে এসেছি সরকারী হাসপাতালের চোখের ডাক্তার দেখিয়ে। আপাতত ওই নাকে চশমা -আঁটা কঠিন চোখ মুখের লোকটা আমাদের মন জুড়ে বসে। যা বলেছে, কথাগুলো শুনলেই বোঝা যায় স্রেফ মিথ্যে কথা কারণ ওর মুখ ছিল অভিব্যাক্তিবিহীন। আমরা ওকে বিশ্বাস করছি, আবার যেন পুরোপুরি আস্থা রাখতেও পারছি না।
ঠিক মনে হচ্ছে আমাদের জীবনটা যেমন হবার, তেমনটা হয়েই গেছে ..এবার ওই রাস্তাতে যতটা সম্ভব সাবধানে পা ফেলতে হবে।

ওর না জানি কী ভীষণ খারাপ লাগছে । আমার ভেতরে বসে থাকা কেউ ফিসফিস করে বলছিল। সাহসই নেই আমার ওর দিকে অনুকম্পার চোখে তাকানোর। যে অর্ধস্বচ্ছ তরল ও গত দুবছর ধরে ব্যবহার করছে, যে তীব্র আলোর রশ্মি ওর কোমল চোখের তারা ভেদ করেছে বারবার নিষ্ঠুরতায় একের পর এক হাসপাতালে আমি নিশ্চিত, ও এতদিনে ক্লান্তিতে ভেঙে পড়েছে। ওর চূড়ান্ত অস্বস্তি, কষ্ট কী ভীষণভাবে প্রকট ওর মুখে ! আমার খুব ইচ্ছে করে, যেভাবে পারি ওকে খানিক স্বস্তি দিতে।

ও শোবার ঘরে। আমি ভেতরে ঢোকার আগে উদ্দেশ্যবিহীনভাবে ঠিক পাশের ঘরটায় পায়চারী করলাম খানিকক্ষণ। কেমন একটা ক্লান্তিকর দোটানা ভাব আমাকে কুরে কুরে খাচ্ছিল। সটান গিয়ে দাঁড়ালাম ওর আয়নাটার সামনে। দাঁড়িয়েই রইলাম। কিছুই না করে । নির্দিষ্ট কোনো কিছুই করছিলাম না আমি। দেখছিলামও না। শার্টের কলারটা অনাবশ্যকভাবেই ঠিকঠাক করার চেষ্টা। সত্যি, আমি একেবারে চাইছি না ওর মুখোমুখি হতে আমার এই বোকা বোকা ঢুলুঢুলু আধফোটা হাসি ঠোঁটের কোণে ঝুলিয়ে রেখে ! এ নিছক অপ্রস্তুত হাবভাব লুকোনোর চেষ্টা ছাড়া তো আর কিছুই নয় ! আর এই মুহূর্তে বুঝতেও পারছিলাম, আমার নিয়ন্ত্রিত অভিব্যক্তির আপাত দুর্ভেদ্য বর্ম কেমন ধীরে ধীরে টুকরো টুকরো হয়ে খসে পড়ছে।
আচ্ছা, আমাদের মতো দুর্বল মানসিকতার মানুষরা কি এভাবে শুধু চুপকথার খেলা খেলে যায় আজীবন ?
মনে হল, একটা কিছু পানীয় নিয়ে আসি . হয়ত ও একটু সহজ হতে পারবে ।

বরফ-ঠাণ্ডা দুধের গ্লাসের দিকে এক ঝলক তাকাল ও। আমি গ্লাস এগিয়ে ধরেছি ওর সামনে। হাসতে পারলে হাসতাম; কিন্তু হাসতে আর পারছি কই ! মেকি হাসিও নয়।

খানিক বেখাপ্পাভাবেই বললাম, নাও, দুধটুকু খেয়ে নাও। ভালো লাগবে । ও কেমন শক্ত হয়ে গেল ।
আমার দিকে তাকাল। দ্রুত, রাগী ভঙ্গিতে। এই দুটি চোখ ছায়াছায়া গভীর মায়াময় হতে পারে। বেশিরভাগ সময়ে। আমি অন্তত সেভাবেই চিনেছি। কিন্তু সেই মুহূর্তে দৃষ্টিতে এমনই তীব্রতা যা আমারই নিজেকে এক ভিনগ্রহের বাসিন্দা বলে মনে হচ্ছিল। কিংবা চিড়িয়াখানার। এক ঝটকায় ও দুধভর্তি গ্লাসটা ছুঁড়ে ফেলে দিল মেঝেতে।

একটুক্ষণের জন্য আমি হতচকিত। নির্বাক।
 
 
আমার ব্লগে বেড়াতে আসার জন্য ধন্যবাদ। কেমন লাগলো আমার ওয়েবসাইটটি? আবার বেড়াতে আসবেন।
কপিরাইট © ২০১৫ My Virtual Home - সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
বই পড়ুন এবং অন্যকে বই পড়তে উৎসাহিত করুন।
অন্যদের দিকে না তাকিয়ে আপনি আপনার অবস্থান থেকে দেশের জন্য মঙ্গলকর কিছু করুন।