ছেলেবেলায় স্কুলে পড়ার সময় সপ্তাচার্যের নাম মুখস্থ করতে হতো। অচেনা নামগুলোর মাঝে তাজমহলকে তখন খুব আপন মনে হতো। ছোট বেলায় আমার এমন একটা ফিলিংস ছিলো যে , ঈশ! তাজমহলটা ভারতে না হয়ে বাংলাদেশে কেন হলো না। আজ আমি আপনাদেরকে বলবো পৃথিবীর সেরা দশটি মনুমেন্টের কথা। দশাশ্চর্য বললেও মন্দ হবে না। শুরুতেই থাকছে তাজমহলের চির চেনা সেই ছবিটি।


বর্তমান পৃথিবীকে আমরা বলে থাকি মডার্ণ ওয়ার্ড, আধুনিক বিশ্ব। অথচ প্রাচীন বিশ্বের মানুষেরা তাদের সীমিত ইঞ্জিনিয়ারিং জ্ঞান নিয়ে এমন কিছু স্থাপনা গড়ে গেছে যার নান্দনিক সৌকর্য্য আমাদেরকে আজো মুগ্ধ করে।
১০. হাজিয়া সোফিয়া, তুরস্কঃ ৫৩২ সালে এটার নির্মাণ কাজ শুরু হয়। প্রথম দিকে এটি একটি ব্যাসিলিকা ছিলো। পরে মুসলমান শাসকেরা এটিকে মসজিদে রূপান্তর করেন। বর্তমানে স্থাপণাটি জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
১০. হাজিয়া সোফিয়া, তুরস্কঃ ৫৩২ সালে এটার নির্মাণ কাজ শুরু হয়। প্রথম দিকে এটি একটি ব্যাসিলিকা ছিলো। পরে মুসলমান শাসকেরা এটিকে মসজিদে রূপান্তর করেন। বর্তমানে স্থাপণাটি জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

৯. পেট্রা, জর্ডানঃ পাথরে ঘেরা পেট্রা নগরীকে বলা হয় মরু গোলাপ। খ্রিস্টপূর্ব ৯ সাল থেকে ৪০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এটি নাবিতিয় রাজ্যের রাজধানী ছিলো।

৮। গিজার পিরামিড, মিশরঃ পৃথিবীর সপ্তাশ্চার্যের সব থেকে প্রাচীন স্থাপনা হচ্ছে পিরামিড। গিজা নিয়োপোলিসে অবস্থিত পিরামিডটি সব থেকে বড়।

৭। মাচ্চু পিচ্চু, পেরুঃ ইনকা সভ্যতার এই নগরী পঞ্চদশ শতাব্দীতে নির্মিত হয়।

৬. কলোসিয়াম, ইতালিঃ ৭০ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত কলোসিয়াম রোমান সাম্রাজ্যের স্মৃতি বহণ করে চলেছে। কলোসিয়াম মূলত ৫০,০০০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতা সম্পন্ন স্টেডিয়াম বিশেষ যেখানে গ্লাডিয়েটরেরা একে অন্যের সাথে আমৃত্যু লড়াই করত।
শ

৫। চিচেন ইতজা, মেক্সিকোঃ ৭৫০ থেকে ১২০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এই নগরী মায়া সভ্যতার কেন্দ্রবিন্দু ছিলো। এখানে অবস্থিত কুকুলকানের প্রার্থণাগৃহ একটি বিখ্যাত স্থাপণা।

৪. ওয়াত ফ্রা সি স্যানফেত, থাইল্যান্ডঃ রাজকীয় এই মন্দিরটি ১৪৪৮ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত হয়।

৩. মোয়াই। এস্টার দ্বীপঃ রাপা নুই মনুষ্যাকৃতির এই মনোলিথিক ভাষ্কর্য ১২৫০ থেকে ১৫০০ সালের মধ্যে নির্মিত হয়েছে। বিজ্ঞানীগণ এখনো নিশ্চিত নন যে বিশালাকৃতির মূর্তি কিভাবে নির্মাণ করা হয়েছে বা কিভাবে এখানে বহন করে আনা হয়েছে।

২. এঙ্কর ওয়াত, কম্বোডিয়াঃ সৌধটি ১২০০ শতাব্দীতে নির্মিত হয়েছে। এটি পৃথিবীর সব থেকে বড় হিন্দু মন্দির। এমনকি এটি পৃথিবীর সব থেকে বড় ধর্মীয় মন্দির।

১. তাজমহল, ভারতঃ তাজমহল দিয়ে শুরু করেছিলাম, তাজমহল দিয়েই শেষ করছি। সম্রাট শাহ জাহান তার প্রিয়তমা স্ত্রীর স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে আগ্রার যমুনা নদীর তীরে সাদা মার্বেল পাথরের এক ইমারত নির্মাণ করেন। মূলত এটি কবর হলেও সারা বিশ্বের মানুষের কাছে এটি ভালোবাসার মূর্ত প্রতীক।

মানুষ মরে গেলে পঁচে যায়, বেঁচে থাকলে বদলায়। কারণে অকারণে বদলায়। কিন্তু কিছু কিছু মানুষের কর্ম তাকে আজীবন বাঁচিয়ে রাখে।
Post a Comment