১০
ফাল্গুন ১৪১৫ বঙ্গাব্দ। মেসে আমরা তিনজন এক রমে থাকি। আমার চৌকিটা জানালার পাশে।
পূবমুখী কাচের জানালা। মেসের জানালার পর্দা টানানোর বালাই নেই। সকালের আলো চোখে
মেখে বিছানা ছাড়লাম। গোসল সেরে নাকে মুখে নাস্তা করে নিলাম। নাস্তা বলতে খিচুড়ী আর
আলু ভর্তা। সাড়ে সাত টার ভিতরে পাগলা কানাই মোড়ে পৌঁছাতে হল। না হলে ভার্সিটির বাস
মিস হয়ে যায়।
যথারীতি
৭/৫৫ টায় ক্যাম্পাসের গেটে নামিয়ে দিল বাস। প্রথম পিরিয়ডে কোন ক্লাস নেই। মেডিকেলে
গেলাম। ডাক্তার দের সবাই আসেনি। যে দুজন এসেছে তদের রুমের সামনে লাইন পড়ে গেছে।
ফারহানার সাথে দেখা। খুব কাহিল হয়ে পড়েছে। গতকাল শখ করে কাকে এক ব্যাগ রক্ত দিয়ে
এসেছে। অবাক লাগে। ওর ওই টিংটিঙ্গে হ্যাংলা শরীর থেকে একব্যাগ রক্ত নিলে আর
কতটুকুই বা অবশিষ্ট থাকবে! ডিপার্টমেন্টে ফিরলাম। প্রায় সবাই এসেছে। কোন ক্লাস
নেই। প্রাক্টিক্যাল পরীক্ষা শেষ। ভাইভার ডেট জানতে ক্যাম্পাসে আসা। বাসে সিট ধরে
আমতলায় বসলাম। বাস ছাড়ার আগ পর্যন্ত আইসিই’র বশির ভাই’র সাথে আড্ডা দিলাম। মেসে ফিরে দুপুরের খাবার খেয়ে ঘুম দিলাম। এই
মাসে খাবারের মান খুব নিম্নমানের হয়ে গেছে। মনে হচ্ছে গ্রাসকাপের পোনা মাছ
বিক্রেতা এমাসের জন্য আমাদের মেস লিজ নিয়েছে।
ঝিনাইদহে
আমি শুরু থেকেই এই মেসে আছি। সবকিছু মিলিয়ে ভালই আছি। আমাদের এখানে একটা উদ্ভট আইন
আছে। যে সব সিনিয়র বর্ডাররা মেস ছেড়ে চলে গেছে তারা মেসে আসে থাকে খায় ঘুমায়।সব
মেনে নিলাম। কিন্তু তাদেরকে বিনে পয়সায়
দিনের পর দিন ফ্রি কে খাওয়ায়। এটা মানা যায় না। তাও মানা যেত যদি চাকরী করা বড়
ভাইয়েরা খালী হাতে এসে না উঠত। শিক্ষিত মানুষ এরকম চক্ষুপর্দাহীন হয় কোন জ্ঞানে।
আগামীকাল
থেকে ভাইভা শুরু। আমার পরশুদিন। ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হলাম। ঘন্টাদুয়েক পড়লাম। আমি
একটানা বেশীক্ষন পড়তে পারি না। বিকেলে হাটতে বের হলাম। আজকেও বইমেলার পথ ধরলাম।
পুরাতন ডিসি কোর্টের মাঠে বইমেলা বসে প্রতিবার। অনেক নতুন বই এসেছে। বেশি বই কেনার
মত টাকা নেই আমার কাছে। যেদিন আমার টাকা হবে সেদিন কি এমনি আগ্রহ থাকবে বই পড়ার।
হয়তো হ্যাঁ হয়তো না। সময় হল মানুষ বদলানোর মেশিন। সময় মানুষকে অনেক অনেক চেঞ্জ করে
ফেলে।
আজ
কয়েকদিন অনেক ক্লান্ত অনুভব করি। বাড়ীর জন্য মন প্রচন্ড চঞ্চল হয়ে পড়েছে। মনে
হচ্ছে এক দৌড়ে বাড়ী চলে যাই। মায়ের হাতের গরম ভাত। আহ! মেসের বুয়ার হাতের বিস্বাদ
রান্না খেয়ে বিরক্ত হওয়া জিভে জল চলে এল। মাঝে মাঝে মন কবি হতে চায়। ব্যস্ত জীবন,
ব্যস্ত নগর, ব্যস্ত ভাব্লবাসা সবকিছু ছেড়ে মন চলে যেতে চায় ঝিলিওমলি রৌদ্র মাখা
নিস্তব্ধ বিকেলে দক্ষিণা বাতাস মেখে মেঠো পথ ধরে দূরের কোন গাঁয়। হয়তো নাম না জানা
পাখি হঠাৎ ডেকে যাবে। আমি চকিত খুঁজব পাখিটারে। হায়রে ক্লান্ত পাখি।
Post a Comment