পিতার মাঝে
রুক্ষতা থাকলেও মায়ের স্বভাবে সবসময় দেখা যায় কোমলতা। এজন্য মেয়েদের বলা হয় মায়ের
জাতি। ভালোবাসা আর মায়ামমতায় পৃথিবীতে স্বর্গের বাগান তৈরী হয় মেয়েদের হাতে।
কিন্তু পৃথিবীর ইতিহাস বইয়ের পাতা উল্টালে এমন অনেক রমনী চরিত্র পাওয়া যাবে যারা
স্বৈরাচারিতায় অনেক সময় পুরুষকে ছাড়িয়ে গেছে। ক্যাথেরিন দ্যা গ্রেট রাশিয়ার জার
ছিলেন। তার শাসনকাল ১৭৬২ থেকে ১৭৯৬ খ্রিস্টাব্দ। যৌন জীবন এবং রাজনৈতিক জীবনের
জন্য ক্যাথেরিন সমাধিক পরিচিত।
প্রুশিয়ার
স্টেটিন নগরীতে ১৭২৯ সালের মে মাসের দুই তারিখে ক্যাথেরিনের জন্ম হয়। এলাকা এখন
পোল্যান্ডের অন্তর্গত szcezecin । ১৬ বছর বয়সে ক্যাথেরিনের বিয়ে হয় তার কাজিন পিটারের সাথে। পিটারের বয়স ১৭, সে পিটারের
প্রপৌত্র এবং রাশিয়ার রাজসিংহাসনের ভবিষ্যৎ উত্তরাধিকারী। পিটার ছিলেন মদ্যপ,
নপুংশক এবং দূর্বল চিত্তের মানুষ। স্বামীর ভালোবাসা কিংবা বাসর জীবন এগুলো
ক্যাথেরিনের জীবনে অজানা রয়ে গেলো। বছর
ছয়েক ক্যাথেরিন ঘোড়া চালনা শিখলেন। বুভুক্ষের মত পড়াশোনা করতে লাগলেন। রাশিয়ার
সম্রাজ্ঞী পিটারের খালা এলিজাবেথ চাচ্ছিলেন ক্যাথেরিন সন্তানের মা হোক। সিংহাসনে
তাদের ধারা অব্যাহত রাখতে চাইলেন। বিবাহিতা কুমারী নারী ক্যাথেরিনকে পাঠালেন
বাল্টিক দ্বীপে। সেখানে তিনি সার্গেই সল্টিকভের সাথে ক্যাথেরিনের রাত্রিযাপনের
ব্যবস্থা করলেন। সার্গেই রাশিয়ার অভিজাত
মানুষদের একজন এবং রমনীবিশারদ হিসেবে বেশ সুনাম অর্জন করেছেন ইতোমধ্যেই।
এক রাতের
মিলনে এলিজাবেথ এক নতুন জীবনের স্বাদ পেলো, যা তার জীবনে অচেনাই ছিলো এতদিন। আদিম
এক নেশায় মাতোয়ারা হয়ে গেলো সে। প্রথম মিলনে ক্যাথেরিন মা হতে পারলো না।
দ্বিতীয়বার মিলনের ব্যবস্থা করা হলো। বছর শেষ না হতেই ক্যাথেরিনের কোলজুড়ে এলো পল।
এলিজাবেথ খুশিতে উদ্বেল হলেন। রাজ সিংহাসনের ভবিষ্যত উত্তরাধিকারী হিসেবে পলকে
তিনি রাশিয়ার জনগনকে উপহার দিলেন। পিটার এই সময় নিজের উপর ডাক্তারী অপারেশন চালান। ডাক্তারদের আন্তরিক
চেষ্টা সত্ত্বেও পিটারের পুরুষাঙ্গে ম্যালফাংশান দেখা দিলো এবং ফলশ্রুতিতে সে
নপুংশক হয়ে গেলো। এই সময়ে ক্যাথেরিনের কোলে এলো দ্বিতীয় সন্তান। ক্যাথেরিনের
উদ্দাম যৌন জীবন চলছিলো পোলিশ অভিজাত যুবক কাউন্ট স্টানিস’ল পোনিটোসকি’র সাথে।
পিটার মনে করতে পারলেন না ক্যাথেরিনের সাথে তার সেভাবে সেক্স হয়েছে কি না। পিটার ,
“আমি জানিনা কিভাবে আমার স্ত্রী গর্ভবতী হলেন।” ।
কিছুদিনপর
একদিন পিটার দেখলেন পোনিটোসকি তার বাগানবাড়ী থেকে তড়িঘড়ি করে বেরিয়ে যাচ্ছেন।
পিটারের মনে সন্দেহ গাঢ় হলো। সে অভিযোগ
করল, পোনিটোসকি তার স্ত্রীর সাথে পরকীয়া করছেন। পোনিটোসকি স্বাভাবিকভাবে এটা
অস্বীকার করলেন। পোনিটোসকিকে অসম্মান করে পোল্যান্ডে ফেরত পাঠানো হলো।
ক্যাথেরিন
পুরুষ পিপাসু হয়ে গেলো। পুরুষ দেহ ছাড়া তার যেন এক মুহুর্ত চলেনা। চারপাশে
বুভুক্ষের মত নজর বোলাতে লাগলো সে। শীঘ্রই সুদর্শন এক তরুনের উপরা তার নজর
পড়ল। তার জীবনের রোমান্সের নৌকায় এবার
তুলে নিলেন কাউন্ট গ্রিগরি অরলভকে তুলে নিলো। অরলভ ঘোড়-সৈন্য বাহিনীর একজন অফিসার।
অরলভের সাথে মেলামেশায় ক্যাথেরিন আবার প্রেগন্যান্ট হয়ে গেলো। ঢিলেঢালা মোটা ড্রেস
পড়া তখন রাশিয়ার ফ্যাশান। ক্যাথেরিন নিজের উঁচু পেটকে ঢেকে রাখতে ফ্যাশানদুরস্ত
পোষাক পরতে লাগলেন। শিশুটির জন্মের কিছু আগে ক্যাথেরিন নিজস্ব চাকর দিয়ে সে
চাকরের বাড়ীতে আগুন লাগাতে বলল। পিটার যাতে
সেটা নিয়েই ব্যস্ত থাকে। পিটার কোন আগুন নেভাতে পারেনি কখনো। না ক্যাথেরিনের দেহের
আগুন না গৃহে লাগা আগুন। কোন আগুন কোন কালেই নেভেনি। অরলভের সাহচর্য্যে
ক্যাথেরিনের কোলজুড়ে তিনটি সন্তান এলো।
ক্যাথেরিনের কোলে তাদের স্থান হয়নি। জন্মানোর সাথে সাথে ক্যাথেরিন তাদেরকে চাকরের
হাতে দিয়ে দিতেন। রাজ প্রাসাদে একটি শিশু সদনে তাদের প্রতিপালন করা হত। কেউ কখনো
জানতে পারতো না এই ফুটফুটে শিশুদের বাবা মা কে।
ক্যাথেরিনের
ব্যবহারে পিটার খুব ক্ষুব্ধ, ১৭৬১ সালে সিংহাসনে আরোহনের পর তিনি ক্যাথেরিনকে
তালাক দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। পিটারের জন্ম জার্মানীতে। রাশিয়া তাকে সাভাবে গ্রহন
করলো না। সে কোন ভাবেই রাশিয়ার জনগনের মন জয় করতে পারলো না। সে যা কিছু পছন্দ করত
তা সবই ছিলো জার্মানীর। তার বন্ধুত্ব ছিলো প্রুশিয়ার দ্বিতীয় ফ্রেডরিকের সাথে। অথচ
প্রুশিয়ার সাথে রাশিয়ার তখন যুদ্ধ চলছে। সে ক্ষমতা গ্রহনের ছয়মাস পর ফ্রেডরিকের
সাথে শান্তি চুক্তি করে এবং ডেনমার্কের সাথে যুদ্ধ শুরু করার পরিকল্পনা আঁটতে
থাকেন।
ক্যাথেরিন
জার্মানীতে জন্ম গ্রহন করলেও রাশিয়ার জনগনের কাছে স্বামীর চেয়ে তার গ্রহনযোগ্যতা
অনেক বেশী। সে ছিলো তীক্ষ্ণ বুদ্ধির অধিকারী।
সে একজন লেফটেন্যান্ট এর পোষাক পরে ঘোড়ার পিঠে চড়ে বসল। ঘোড়া হাঁকিয়ে পৌছে
গেলো সেন্ট পিটার্সবার্গ। কাউন্ট অরলভ সেনারা তখন পিটার্সবাগে। এই সৈন্যদের নিয়ে
ক্যাথরিন পিটারকে বন্দী করলেন। এর আটদিন পর অরলভের ভাই আলেকসেই এর হাতে পিটার খুন
হন।
ক্যাথরিন
পুরাতন প্রেমিক স্ট্যানিস’ল পোনিটোসকি কে পোল্যান্ডের সিংহাসনে বসালেন। তুরস্কের
বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে নিজেই নেতৃত্ব দিতে চললেন। ক্যাথরিন অরলভকে বিয়ে করতে
রাজী হলেন না। অরলভ সুন্দরী মেয়েদের পটিয়ে মজা লুটে বেড়াতে লাগলো। মদ আর মেয়ে
মানুষে আচ্ছন্ন হয়ে থাকলো সে। একসময় ক্যাথরিনের চোখে ধরা পড়লো তার ১৩ বছর বয়সের
কাজিনের সাথে অরলভ অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। ক্যাথেরিন রেগে অরলভকে লাথি মেরে
রাজপ্রাসাদ থেকে বের করে দিলেন। অরলভ ক্ষুধা আর অর্থকষ্টে পাগল হয়ে মারা যান।
Post a Comment