২৫৯ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে উত্তর-পশ্চিম চিনের চি’ন
রাজ্যে রাজপুত্র হয়ে জন্মগ্রহন করেন চেং ছিয়াং। মাত্র ১৩ বছর বয়সে তিনি চি’নের রাজ-সিংহাসনে
বসেন। চেনের প্রতিনিধি হিসেবে তার প্রধানমন্ত্রী দেশ শাসন করতে লাগলো। কিন্তু
খ্রিষ্টপূর্বাব্দ ২৩৬ সনে চেং যৌবনে পৌঁছামাত্র প্রধানমন্ত্রীকে হত্যা করেন। এরপর
সে চিনের অন্যান্য অংশগুলো নিজের আয়ত্বে নেয়ার জন্য নিষ্ঠুর অভিযানে নামেন।
চেং নিজের নাম বদলে শিহ-হুয়াং-তাই রাখেন, যার
অর্থ প্রথম মহামান্য সম্রাট। তিনি রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সকল পরিবারকে রাজধানী
সিয়েন-ইয়াং এ বাস করতে বাধ্য করেন। এর ফলে তিনি সহজেই তাদের উপর নজরদারী করতে
পারছেন। কেউ তার বিরোধিতা করা মাত্রই হত্যার নির্দেশ দিচ্ছেন। মানুষের মাঝে যাতে
বিপদজনক কোন ধারণা বা আইডিয়া জাগতে না পারে সেজন্য তিনি কৃষিবিদ্যা,
চিকিৎসাশাস্ত্র ও ধর্মীয় বই রেখে অন্য সব বই জ্বালিয়ে দেয়ার নির্দেশ দিলেন।
তিনি তাও মতবাদে বিশ্বাসী ছিলেন। তাও মতবাদ
অনুসারে অমরত্ব পেতে তিনি শতাধিক জাদুকরকে পাঠালেন আশির্বাদের দ্বীপ খুঁজে বের
করতে যেখানে তিনি অমরত্বের স্বাদ নিয়ে আজীবন বেঁচে থাকতে পারবেন। কিন্তু তারা
ব্যর্থ হয়ে ফিরে এলো। চেং তাদের মধ্যে ৪৬০ জনকে হত্যা করলেন।
আততায়ীদের ভয়ে তিনি রাজপ্রাসাদের নিরাপত্তা নিয়ে
উদবিগ্ন হয়ে বিশাল এক প্লান হাতে নিলেন। আর এই পরিকল্পণা বাস্তবায়নে ৭০০,০০০ লোক
নিয়োগ করলেন। বলাবাহুল্য এসব লোককে তিনি জোর করে কাজ করতে বাধ্য করেছিলেন। কিন্তু
চীনের মহা প্রাচীর তৈরী করতে কতজন লোক তিনি লাগিয়েছিলেন তার হিসেব পাওয়া যায় না।
অনুমান করা হয় খ্রিষ্টপূর্বাব্দ ১০ সনের কাছাকাছি কোন সময়ে চেং মৃত্যুবরণ করেন।
চেং চাইতেন তার পরবর্তী ১০০০ প্রজন্ম চিন শাসন করবে। কিন্তু চেং এর মৃত্যুর সাথে
সাথে তার সাম্রাজ্যের পতন ঘটে। চেং চীন সামাজ্র একীভূত করে আজ ২২ শতকে এসেও সেই
চীন সাম্রাজ্য সংযুক্ত আছে। চেং কে পাহাড়ের উপরে বিশাল এক সমাধিগার তৈরী করে কবর
দেয়া হয়, যেটা পাহারা দিত ৬০০০ টেরাকোটা যোদ্ধা।
চেং হারিয়ে গেছে, হারিয়ে গেছে নিপীড়িত মানুষগুলো,
কিন্তু যুক্ত চীন আজো আছে, আছে পৃথিবীর অন্যতম সপ্তমাশ্চর্য চীনের মহা প্রাচীর।
Post a Comment